বৃহস্পতিবার ০২ ডিসেম্বর ২০২১

| অগ্রাহায়ণ ১৮ ১৪২৮

মহানগর নিউজ :: Mohanagar News

প্রকাশের সময়:
২০:৪১, ২৪ নভেম্বর ২০২১

নিজস্ব প্রতিবেদক

পুলিশের চাঁদাবাজি ও পরিবহন ব্যয়ের চাপে সবজির বাজারে আগুন

প্রকাশের সময়: ২০:৪১, ২৪ নভেম্বর ২০২১

নিজস্ব প্রতিবেদক

পুলিশের চাঁদাবাজি ও পরিবহন ব্যয়ের চাপে সবজির বাজারে আগুন

শীতকালীন সবজির দাম চড়া

শীতের আমেজ পুরোপুরি বুঝা না গেলেও বাজারে আসতে শুরু করেছে শীতকালীন সবজি। ফুলকপি, বাঁধাকপি, শিম, মূলা ও লাউসহ শীতের বিভিন্ন শাকসবজি দেখা গেলেও বিক্রি হচ্ছে চড়া দামে। হাট-বাজারে চড়া দাম নিয়ে ক্রেতা-বিক্রেতার মধ্যে চলছে তর্ক-বিতর্ক। তবে বাড়তি পরিবহন খরচ ও দফায় দফায় পুলিশের চাঁদাবাজির কারণে সবজির দাম বাড়ছে-এমনটাই দাবি কৃষক, বেপারি, পরিবহন, আড়তদার ও  ব্যবসায়ী মহলের। 

সরেজমিনে রেয়াজউদ্দিন বাজারে সবজির দোকান ঘুরে দেখা গেছে, বাজারে শীতের আগাম শাক-সবজি আসতে শুরু হয়েছে। বর্তমানে মূলাশাক, লাউশাক, লালশাক, শসা, লাউ, ফুলকপি, বাঁধাকপি, শিম, টমেটো, মূলাসহ আরও বিভিন্ন ধরনের সবজি আসতে শুরু হয়েছে। পাইকারি পর্যায়ে কেজি প্রতি শিম ২৫ থেকে ৩৫ টাকা, ফুলকপি ৩০ থেকে ৪০ টাকা, বাঁধাকপি ১৫ থেকে ২০ টাকা, কাঁচামরিচ ৩৫ থেকে ৪০ টাকা, আলু ১৩ টাকা, মূলা  থেকে ১৫ থেকে ২০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ১৮ থেকে ২৫ টাকা, পটল ৩০  টাকা, বরবটি ৪০ টাকা, বেগুন ২৮ টাকা,  লাউ ১৫ টাকা থেকে ২০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

তবে খুচরা বাজারে সবজির দাম নিয়ে ক্রেতারা অসন্তুষ্ট। নগরের বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, কেজি প্রতি শিম ৭০ টাকা, ফুলকপি ৪০ থেকে ৪৫ টাকা, বাঁধাকপি ৩৫ টাকা, কাঁচামরিচ ৫০ টাকা, আলু ২০ টাকা, মূলা ৪০ থেকে ২০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ৩৫-৪০ টাকা, পটল ৫০ টাকা, বরবটি ৫০ টাকা, বেগুন ৫০-৬০ টাকা,  লাউ ৪০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

খুচরা পর্যায়ে দাম সাধারণত বাড়তি থাকে। তবে পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ে দাম বেশি থাকার মূল কারণ হিসেবে খুচরা ব্যবসায়ীরা বাড়তি পণ্য পরিবহন খরচের কথা জানান। 

অলংকার বাজারের সবজি বিক্রেতা আলী আহমদ বলেন, এখন সবজির দাম অনেক কম। তবে অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার অনেকটা বেশি। তার একটি কারণ হলো গাড়ি ভাড়া বেড়ে গেছে।

বাজার দর উঠানামা প্রসঙ্গে কথা হয় রেয়াজউদ্দিন বাজার আড়তদার কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও মেহরাজ বাণিজ্যলয়ের কর্নধার ফারুক শিবলীর সাথে। তিনি মহানগর নিউজিকে বলেন, উত্তরবঙ্গ থেকে ট্রাক ভাড়া যেখানে ছিল ২৮ হাজার টাকা, সেখানে এখন গুনতে হচ্ছে ৩৩-৩৫ হাজার টাকা। প্রতি ট্রাকে ৫ থেকে ৭ হাজার টাকা ভাড়া বেড়ে গেছে। অন্যদিকে সবজির ট্রাক দেখলেই সিটি গেইটে চাঁদা দিয়ে ঢুকতে হয়। সেই চাঁদা দেওয়া শেষ হয় কদমতলী এসে।

তিনি আরও বলেন, যে কৃষক ১০ টাকা কেজিতে বেগুন বিক্রি করে, সব খরচ শেষে সেই বেগুন আমাদেরকে বিক্রি করতে হয় ২৮ টাকা করে। আর ভোক্তাদের কাছে যেতে যেতে সেই বেগুনের দাম হয়ে যায় ৫০ টাকা। পাইকারি মূল্যে যে সবজি আমরা বিক্রি করি তা খুচরা মূল্যের সাথে অনেক পার্থক্য। এ কারণে প্রভাবটা মূলত আড়তদারের উপরেই পড়ে।

এ বছরে সবজির বাড়তি দর প্রসঙ্গে কুষ্টিয়ার মেহেরপুরের বেপারি মো. মামুনের সাথে কথা হয়। তিনি উত্তর বঙ্গের কৃষকদের কাছ থেকে সবজি কিনে চট্টগ্রামের রেয়াজউদ্দিন বাজারের আড়তদারের কাছে বিক্রি করেন। তিনি বলেন, আমরা মেহেরপুর থেকে একটি ট্রাকে প্রায় ১৩ টন সবজি নিয়ে যাই। এটা নিয়ে কোথাও কোনো সমস্যা হয় না। তবে বিআরটিসি মোড়ে (কদমতলী) পুলিশদের টাকা দিতে হয়। গাড়ি নিয়ে ঢুকতে ৪০০ টাকা। আবার ট্রাক আনলোড করে এক ঘণ্টার ভেতরে বের হতে ৪০০ টাকা দিতে হয়। এটা বন্ধ করলে আমাদের খুব উপকার হতো।

এ প্রসঙ্গে মহানগর চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ট্রাফিক) শ্যামল কুমার নাথ বলেন, কেন তারা এখানে টাকা দিচ্ছে তা আমার বোধগম্য নয়। আর কারা মাল আনছে, না আনছে; এখানে সার্জেন্টের ভূমিকা কি! সার্জেন্টের তো কোনো ভূমিকা নাই। সার্জেন্টকে কেন টাকা দিবে? তারপরও কারও কোনো অভিযোগ থাকলে, ডিসি (ডেপুটি কমিশনার) ট্রাফিক বরাবরে আবেদন করতে পরামর্শ দেন তিনি।

মহানগর নিউজ/এসবি/এসএ