বুধবার ১৯ জানুয়ারি ২০২২

| মাঘ ৬ ১৪২৮

মহানগর নিউজ :: Mohanagar News

প্রকাশের সময়:
২১:৩৮, ১৩ জানুয়ারি ২০২২

শুভ্রজিৎ বড়ুয়া

ভরা মৌসুমেও অস্থির চালের বাজার, ক্রেতার নাভিশ্বাস

প্রকাশের সময়: ২১:৩৮, ১৩ জানুয়ারি ২০২২

শুভ্রজিৎ বড়ুয়া

ভরা মৌসুমেও অস্থির চালের বাজার, ক্রেতার নাভিশ্বাস

ধান কাটা শেষে চলছে বেচাকেনা। আমদানি করা চালও জমে আছে গুদামে। এরপরও বাজারে চালের দামে লাগাম নেই। ব্যবসায়ীরা বলছেন, পরিবহন ব্যয়ের কারণে ধানের দাম বেড়েছে। তাছাড়া প্রাণ, হাকিম, আকিজ, পুষ্টি ও এসিআইয়ের মতো শিল্প প্রতিষ্ঠান মিল খুলে চাল মজুদ করায় দাম বাড়ছে বলেও অভিযোগ করেন তারা। অন্যদিকে কৃষিমন্ত্রী বলছেন, রোহিঙ্গাদের কারণে চালের চাহিদা বাড়ায়, দামে তার প্রভাব পড়ছে।

বাজার ঘুরে দেখা গেছে, সপ্তাহখানেকের ব্যবধানে নাজিরশাইল চালের দাম কেজিপ্রতি ১০ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৭৫ টাকায়। পাঁচ থেকে ছয় টাকা করে বেড়েছে মিনিকেট ও বিআর-২৮ চালের দাম। ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) তথ্যমতে, সপ্তাহের ব্যবধানে সরু চালের দাম ১ দশমিক ৫৯ শতাংশ, মাঝারি চালের দাম ৩ দশমিক ৮৫ শতাংশ ও মোটা চালের দাম ৩ দশমিক ২৩ শতাংশ বেড়েছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যে, সারাদেশে উৎপাদিত মোট ৩ কোটি ৭৫ লাখ টন চালের প্রায় ৪৫ ভাগের যোগান আসে আমন মৌসুমে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই এই মৌসুমে চালের দাম কম থাকে। তবে এবারের চিত্র একেবারেই ভিন্ন। এছাড়া দেশে বোরো মৌসুমে চাল উৎপাদিত হয় ২ কোটি টন আর আউশের মৌসুমে ২৫ থেকে ২৭ লাখ টন।

চট্টগ্রাম নগরের পাহাড়তলী বাজারের এক চাল বিক্রেতা বলেন, এক মাস আগে যে নাজিরশাইল ছিল ৬০-৬৫ টাকা কেজি, বর্তমানে সেটা ৭৫ টাকা। মিনিকেট ছিল ৫৪-৫৫ টাকা, তা এখন ৬০ টাকা কেজি। কিছু বড় বড় কোম্পানি একসাথে অনেক চাল কিনে নেয়। এরপর তারা ইচ্ছামতো দাম বাড়িয়ে দেয়। পাইকারি বাজারে এ অবস্থার কারণে খুচরা বাজারের অবস্থা আরও খারাপ। ফলে খুচরাতে সব ধরনের চালে কেজিপ্রতি পাঁচ থেকে ১০ টাকা বেড়েছে।

এ বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘চালের উৎপাদন প্রতি বছর বাড়ছে। বাজারে পর্যাপ্ত চাল রয়েছে। কিন্তু মনে রাখতে হবে, বর্তমানে বিশ্ববাজারে গমের দাম বেড়েছে। গমের দাম বাড়লে চালেরও দাম বাড়ে। এছাড়াও দেশে ১০ লাখ রোহিঙ্গা রয়েছে। প্রতিবছর ২২-২৪ লাখ নতুন মুখ যোগ হচ্ছে। অ্যানিমেল ফিড হিসেবেও চালের কিছু ব্যবহার হচ্ছে। এসব বিষয় ও কিছুটা মুদ্রাস্ফীতির ফলে চালের দাম কিছুটা বেশি। কিন্তু বাজারে গেলে চাল পাওয়া যায় না বা মানুষ কিনতে পারে না এমন পরিস্থিতি নেই। এই মুহূর্তে দেশে খাদ্যসংকট নেই।’

চালের দাম বাড়ার বিষয়ে কথা হয় চট্টগ্রাম চাল ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক ওমর আজমের সাথে। তিনি মহানগর নিউজকে বলেন, ‘চালের দাম বাড়ার পেছনে বেশ কিছু কারণ আছে। এরমধ্যে পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়া একটি। এছাড়া ধানের দামও বেশি। আমরা বর্তমানে এক মণ ধান কিনছি ১ হাজার ১৫০ টাকায়। এর থেকে আমরা চাল পাই ২৪ কেজি। এ বছরের শুরু থেকেই ধানের দাম হাজার টাকার বেশি। আগে যা ৭০০ থেকে ৯০০ টাকায় বিক্রি হতো। একারণে চালের কেজি আমরাই পাচ্ছি ৪৮ টাকা দরে।’

তিনি আরও বলেন, ‘এছাড়াও কৃষিমন্ত্রী রোহিঙ্গাদের কথা যা বলেছেন, তাও ঠিক। ওখানেও আমাদের চাহিদা বেড়েছে। তবে এখন বাজারে চালের কোনো সংকট নেই। পর্যাপ্ত মজুদ আছে। কিন্তু প্রাণ, হাকিম, আকিজ, পুষ্টি ও এসিআইয়ের মতো বেশ কিছু শিল্প গ্রুপ মিল করেছে। তারা মিল করে চাল মজুদ করছে। ফলে চালের দাম যা হওয়ার কথা, তার চেয়ে বেশি আছে।’

শিগগিরই অভিযান চালিয়ে চালের দাম ভোক্তার নাগালে আনার দাবি জানিয়েছে ভোক্তা অধিকার সংস্থা-ক্যাব। কনজুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সহ-সভাপতি এসএম নাজের হোসেন বলেন, ‘কেন্দ্রীয়ভাবে ও স্থানীয় পর্যায়ে বাজার তদারকি হওয়া উচিত। সরবরাহ ঠিকভাবে না হলে কৃত্রিম সংকট হওয়ার আশঙ্কা থাকে। সরবরাহ ঠিক রাখতে প্রশাসনের ভূমিকা সবচেয়ে বেশি।’

চালের মূল্য নিয়ন্ত্রণে সরবরাহ ঠিক রাখতে জেলা প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে কথা হয় চট্টগ্রামের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মু. মাহমুদ উল্লাহ মারুফের সাথে। তিনি বলেন, ‘সরবরাহ ঠিক রাখতে আমরা অবশ্যই বাজার মনিটরিং করবো। আগামী সপ্তাহে আমাদের মনিটরিং বোর্ডের মিটিং হবে। এ মিটিংয়ে আমি বিষয়টি উপস্থাপন করবো। কৃষি বিপণন অধিপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় করে আমরা চালের দাম নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।’ 

এসএ