বৃহস্পতিবার ০২ ডিসেম্বর ২০২১

| অগ্রাহায়ণ ১৮ ১৪২৮

মহানগর নিউজ :: Mohanagar News

প্রকাশের সময়:
২২:০৩, ২৪ নভেম্বর ২০২১

মহানগর ডেস্ক

বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণ—মামুনুল হকের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিলেন সেই নারী

প্রকাশের সময়: ২২:০৩, ২৪ নভেম্বর ২০২১

মহানগর ডেস্ক

বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণ—মামুনুল হকের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিলেন সেই নারী

মামুনুল হকের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিলেন কথিত স্ত্রী ঝর্ণা

হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের সাবেক যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হকের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিয়েছেন ‘কথিত’ স্ত্রী জান্নাত আরা ওরফে ঝর্ণা। 

বুধবার (২৪ নভেম্বর) দুপুরে নারী ও শিশু নির্যাতন ট্রাইব্যুনালের বিচারক নাজমুল হক শ্যামলের আদালতে ১২টা থেকে বেলা ২টা পর্যন্ত পৌনে দুই ঘণ্টা এই সাক্ষ্য দেন জান্নাত আরা। সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে বাদী জান্নাত আরাকে জেরা করেন আসামিপক্ষের আইনজীবীরা।

এর আগে সকাল ১০টার দিকে কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে গাজীপুর জেলার কাশিমপুর কারাগার থেকে মামুনুল হককে নারায়ণগঞ্জে নিয়ে আসা হয়। 

আদালতে আসামিপক্ষের আইনজীবী বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সহ–আইনবিষয়ক সম্পাদক সৈয়দ মো. জয়নুল আবেদীন মেসবাহ্ বলেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আগমন কেন্দ্র করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে হেফাজতে ইসলামের দূরত্ব তৈরি হলে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে মামুনুল হকের বিরুদ্ধে ধর্ষণের এই মামলা করা হয়। বাদীকে মেডিকেল পরীক্ষার জন্য পাঠানো হলেও তিনি রাজি হননি। সেখানে তিনি ডাক্তারের কাছে বলেছেন, কলেমা পড়ে মামুনুল হকের সঙ্গে তার বিয়ে হয়েছে। তবে তার অনুমতি ছাড়াই ডিএনএ পরীক্ষা করানো হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ‘জান্নাত আরা বলেছেন, মামুনুল হক তাকে কলেমা পড়ে শরীয়ত মোতাবেক বিয়ে করেছেন। মামুনুল হকের কথায় তিনি ঢাকায় এসেছেন। তিনি এই শারীরিক সর্ম্পকের কথা কাউকে বলেননি। জেরায় বাদী অনেক প্রশ্নের উত্তর দিতে পারেননি। সে ক্ষেত্রে আমরা মনে করি, সফলতা পেতে পারি।’

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের সরকারি কৌঁসুলি রকিব উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘আদালতে বাদী আসামির বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিয়েছেন। আসামিপক্ষের আইনজীবীরা আদালতে বারবার প্রমাণের চেষ্টা করেছেন, মামুনুল হকের স্ত্রী জান্নাত আরা। আসামিপক্ষের আইনজীবীরা বাদীকে ৪১ বার প্রশ্ন করে জেরা করেছেন, কিন্তু বাদী প্রতিবার বলেছেন, তাকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণ করা হয়েছে। জেরাকালে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা মামুনুল হকের স্ত্রী জান্নাত আরা—এটা প্রমাণ করতে পারেননি। এই মামলার ৪৩ সাক্ষীর মধ্যে মামলার বাদীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছে। আদালত পরবর্তী সময়ে সাক্ষ্য গ্রহণের তারিখ দেবেন।

নারায়ণগঞ্জ কোর্ট পুলিশের পরিদর্শক আসাদুজ্জামান জানান, সকালে কড়া নিরাপত্তায় গাজীপুর হাই সিকিউরিটি কারাগার থেকে মামুনুল হককে নারায়ণগঞ্জে নিয়ে আসা হয়। সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে তাঁকে আবার গাজীপুর হাই সিকিউরিটি কারাগারে পাঠানো হয়।

আদালতে বাদীপক্ষের আইনজীবী ছিলেন জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ মোহসীন মিয়া। তাকে সহায়তা করেন জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি হাসান ফেরদৌস জুয়েলসহ ৩০ থেকে ৩৫ জন আইনজীবী।

মহানগর নিউজ/এআই