বুধবার ১৯ জানুয়ারি ২০২২

| মাঘ ৬ ১৪২৮

মহানগর নিউজ :: Mohanagar News

প্রকাশের সময়:
২০:৩৭, ১ ডিসেম্বর ২০২১

নিজস্ব প্রতিবেদক

ধুলায় ধূসর বন্দরনগরী—ফুসফুস রক্ষা করছে করোনার মাস্ক

প্রকাশের সময়: ২০:৩৭, ১ ডিসেম্বর ২০২১

নিজস্ব প্রতিবেদক

ধুলায় ধূসর বন্দরনগরী—ফুসফুস রক্ষা করছে করোনার মাস্ক

ধুলায় ধূসর চট্টগ্রাম নগরী

চট্টগ্রাম নগরজুড়ে চলছে বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মযজ্ঞ। চলমান এসব উন্নয়ন কাজে ধুলায় ধূসর হয়ে ওঠছে নগরের আকাশ-বাতাস। এমন দমবদ্ধ পরিবেশে চলাফেরা করতে হচ্ছে নগরবাসীকে। এতে ফুসফুসজনিত রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বাড়ছে। তবে করোনা প্রতিরোধে ব্যবহৃত মাস্ক অনেকটা ফুসফুসের রক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করছে। ফলে ফুসফস সংক্রমিত রোগীর সংখ্যা আনুপাতিক হারে কম বলে জানান বিশেষজ্ঞরা।

নগরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, শেখ মুজিব রোডের আগ্রাবাদ থেকে দেওয়ান হাট, স্ট্র্যান্ড রোডের মাঝির ঘাট থেকে বারেক বিল্ডিং, পোর্ট কানেক্টিং রোডের নয়াবাজার থেকে সাগরিকা, সল্টগোলা থেকে ইপিজেড ও বহদ্দারহাট বাস টার্মিনাল এলাকায় ধুলাবালির জন্য নিশ্বাস নেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। এ পথগুলোর কোনো একটি দিয়ে ঘুরে আসলেই জামাকাপড়ের পাশাপাশি হাত- মুখ-মাথা ধুলোয় সাদা হয়ে যায়। ধুলাবালির উড়াওড়ির কারণে এসব উন্নয়ন কাজে চরম অসন্তোষ ও ক্ষোভ প্রকাশ করছেন স্থানীয়রা। 

চৌমুহনি এলাকার দোকানি মো. লিয়াকত বলেন, ধুলার যন্ত্রণা তো কয়েক বছর ধরে চলছে। সিটি কর্পোরেশন নিয়মিত পানি ছিটায়, ঝাড়ুও দেয়। কিন্তু যে কাজ চলছে, এতে ধুলা বন্ধ হবার কোনো সুযোগ নেই। আর কাজগুলোও এতো ধীরগতিতে চলছে, কবে শেষ হবে বুঝতে পারছি না।

পরিবেশ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, প্রতি ঘনমিটার বাতাসে ধুলোর পরিমাণ দেড়শ মাইক্রোগ্রাম পর্যন্ত সহনীয় হলেও নভেম্বর চট্টগ্রাম নগরীতে গড় ছিল ৩০৯ মাইক্রোগ্রাম। এর মধ্যে ৩০ নভেম্বর ছিল ৮৭৭ মাইক্রোগ্রাম আর ২০ নভেম্বর ছিল ৬৬৬ মাইক্রোগ্রাম।

নয়াবাজার এলাকা থেকে এক পথচারী বলেন, এ রাস্তা তো আজীবনের ভাঙা। কবে ঠিক হবে কেউ জানে না। আমাদের এ দুর্ভোগ দেখার কেউ নেই। কী যে বিরক্তি নিয়ে এ ধুলাবালির মধ্যে যাতায়াত করি, বোঝাতে পারবো না।

এ প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম সিটি মেয়র রেজাউল করিমের সাথে কথা হয় মহানগর নিউজের। তিনি বলেন, ‘আমরা নিয়মিত পানি ছিটানোর কাজ করছি। নগরবাসী যেন কোনো ধরনের অসুবিধায় না পড়েন আমরা সবসময় সেদিকে দৃষ্টি রাখছি।’

চসিক সূত্রে জানা যায়, ধুলাবালির উড়াওড়ি নিয়ন্ত্রণে সংস্থাটির পানি ছিটানোর বেশ কয়েকটি গাড়ি ও তিনটি সুইপিং কার ব্যবহার হচ্ছে। এছাড়াও পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা কাজ করছেন নগরকে পরিষ্কার করতে। সকাল-বিকালে নিয়ম করেই পানি ছিটানো ও ঝাড়ুর কাজ চলছে। 

প্রায়শই ধুলাবালির কারণে ফুসফুসজনিত রোগে ভুগছেন লোকজন। তাই এ বিষয়ে কথা বলা হয় পালমোনোলজিস্ট (ফুসফুসজনিত রোগ বিশেষজ্ঞ) অধ্যাপক ডা. মোস্তফা নূর মোরশেদের সাথে। তিনি মহানগর নিউজকে বলেন, ‘ঠাণ্ডা ও ধুলাবালির কারণে ফুসফুসজনিক রোগ খুব বেশি হয়। এবারও আক্রান্ত হচ্ছে। তবে করোনার কারণে অধিকাংশ লোকের মুখে মাস্ক থাকায় রোগীর সংখ্যা আনুপাতিক হারে কম। এরপরও আমরা সবাইকে সাবধান করি। বিশেষ করে ধূমপায়ী ও এজমা রোগীরা যেন সবসময় মাস্ক ব্যবহার করেন।’

মহানগর নিউজ/এসবি/এসএ