বৃহস্পতিবার ০২ ডিসেম্বর ২০২১

| অগ্রাহায়ণ ১৮ ১৪২৮

মহানগর নিউজ :: Mohanagar News

প্রকাশের সময়:
১৯:৪৩, ১৬ নভেম্বর ২০২১

মেহেদী হাসান কামরুল

বিকেলে মায়ের সঙ্গে ভিডিও কলে কথা, রাতে হোটেল থেকে লাফিয়ে মৃত্যু  

প্রকাশের সময়: ১৯:৪৩, ১৬ নভেম্বর ২০২১

মেহেদী হাসান কামরুল

বিকেলে মায়ের সঙ্গে ভিডিও কলে কথা, রাতে হোটেল থেকে লাফিয়ে মৃত্যু  

হোটেল থেকে লাফিয়ে মৃত্যু

বন্দরনগরী চট্টগ্রামের পাঁচ তারকা হোটেল রেডিসন ব্লু থেকে লাফিয়ে পড়ে নিহত আরিফ কবিরের মৃত্যু নিয়ে ধুম্রজাল সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশের সামনে এখন দুটি প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে। আরিফ কেন রেডিসন ব্লুতে এসেছিলেন। আবার কেনই বা হোটেলের ২০তলা থেকে লাফ দিলেন তিনি। ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন একেবারে প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে পুলিশ। 

সোমবার (১৫ নভেম্বর) রাত প্রায় ৯টায় হোটেলের ২০ তলা থেকে লাফিয়ে মৃত্যুবরণ করেন আরিফ কবির (২৪)। এর পর মঙ্গলবার (১৬ নভেম্বর) দুপুরে তার লাশ ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেলে মর্গে আনা হয়।

সরেজমিনে মর্গে গিয়ে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও পরিবারের বরাতে জানা যায়, আরিফ কবির গত ৯ নভেম্বর তার মায়ের সঙ্গে রাগারাগি করে বাসা থেকে বেরিয়ে যান। ওইদিন তিনি তার নানা বদরুদ্দোজাকে মোবাইলে ফোন করে জানান, তিনি গুলশানে এক বন্ধুর বাসায় অবস্থান করছেন। এরপর তিনদিন আরিফ পরিবারের সঙ্গে কোন রকম যোগাযোগ করেন নি। ১৩ তারিখ তার নানাকে ফোনে ম্যাসেজ করে জানান তিনি কক্সবাজারে অবস্থান করছেন। একই দিন আরিফের মা ম্যাসেজ করে তাকে জানান, ‘তুমি যদি আমাদের সাথে যোগাযোগ না করো, তাহলে আমরা পুলিশের কাছে অভিযোগ করবো। 

পুলিশের অনুসন্ধানেও এর সত্যতা মিলেছে। আরিফ ভাড়ায়চালিত রেন্ট-এ কার থেকে একটি প্রাইভেট কার ভাড়া নিয়ে কক্সবাজার পৌঁছান।সেখানে যাওয়ার পর তার সঙ্গে কারের চালকের ভাড়া নিয়ে বাগবিতণ্ডা হলে বিষয়টি কক্সবাজার টুরিস্ট পুলিশের এসআই আমজাদ হোসেন সমাধান করে দেন। পরে আমজাদ হোসেন তার পারিবারিক বর্ণনা শুনে তাকে ঢাকায় ফেরত যাওয়ার অনুরোধ জানান। এসময় ঢাকাগামী গাড়ির টিকেটও কেটে দেন। কিন্তু আরিফ বাসে ঢাকায় ফেরত না গিয়ে আবারও একটি প্রাইভেট কারযোগে চট্টগ্রাম আসেন। গতকাল ১৫ নভেম্বর বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে তিনি হোটেল রেডিসনে আসেন। এর আগে বিকেল আনুমানিক সাড়ে ৪টার দিকে তার মায়ের সঙ্গে শেষ বারের মত হোয়াটসঅ্যাপে ভিডিও কলে কথা বলেন। এসময় মাকে শেষ বারের মত দেখেন। পরে তিনি রাত সাড়ে আটটার দিকে রেডিসনের ২০ তলায় অবস্থিত মেজুদা রেস্টুরেন্ট ও বারে গিয়ে ১০০ মিলি ওয়াইন (মদ) অর্ডার করেন। সেখানে মদ পানের পর কিছুটা তন্দ্রাচ্ছন্ন অনুভূত হলে তিনি সেখানেই তিনি ঘুমিয়ে পড়েন। ঘুম থেকে ওঠে রাত সাড়ে আটটার দিকে হঠাৎ ২০ তলা থেকে লাফ দিয়ে ৬ তলার স্পা’র ছাদে গিয়ে পড়েন।

পরিবারের বরাত দিয়ে মামলার তদন্ত কর্মকতা উপ-পরিদর্শক (এসআই) শিমুল চন্দ দাস বলেন, আরিফ কবির ঢাকার একটি স্বনামধন্য ইংরেজী মাধ্যম শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে ও লেভেলে পড়াশোনা শেষ করে এ-টু লেভেলে পড়াশোনা করছিলেন। এর মাঝে তার পড়াশোনায় দীর্ঘদিনে একটা গ্যাপ পড়ে। পরে আবারও পড়াশোনা শুরু করেন তিনি। 

পুলিশের এই তদন্ত কর্মকর্তা আরও বলেন, নিহত আরিফ গত ১০ বছর যাবত অক্সেসিভ কমপালসিভ ডিজঅর্ডার (ওসিডি) রোগে ভুগছিলেন বলে তার মা ফারহানা দোজা ইভা আমাদের জানিয়েছে। বাসায় মাঝে মাঝে অসংলগ্ন আচরণ করতেন। এসব নিয়ে মা ছেলের মাঝে বাড়াবড়ি হতো। তখন পরিবার তাকে নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশের ভয় দেখাতো। এর আগেও তাকে কাউন্সেলিং করানোর জন্য পুলিশের এক এসআইয়ের কাছে নেওয়া হয়। আমি ওই পুলিশ সদস্যের সঙ্গেও কথা বলেছি।
 
পারিবারিক অসঙ্গতি 

নিহত আরিফ কবিরের সাথে পারিবারে বৈরিতাপূর্ণ সম্পর্ক ছিল বলে ধারণা করছে পুলিশ। তাছাড়া আরিফের পিতার পরিবারে সাথে সুসর্ম্পক ছিল না বলে ধারনা করা হচ্ছে। 

পুলিশ জানায়, আরিফ কবিরের বাবা মো. এনামুল কবির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সাবেক মহাপরিচালক ছিলেন। ২০১৮ সালে স্বামী মারা যাওয়ার পর আরিফের মা শ্বশুরবাড়ি ছেড়ে তিন সন্তানকে নিয়ে বাবা বদরুদ্দোজার বাড়িতে ওঠেন। সেখানে তিনি সন্তানদের নিয়ে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। নিহত আরিফ কবিরের ছোট বোন অতন্দ্রীলা দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী। তার আরেক ছোটভাই অনন্য কবির পড়েন দশম শ্রেণিতে।
 
এ বিষয়ে নিহত আরিফ কবিরের মা ফারহানা দোজার সাথে যোগাযোগ করলে সাংবাদিক পরিচয় পাওয়ার পর তিনি এ বিষয়ে কথা বলতে ইন্টারেস্টেড (আগ্রহী) না বলে ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। পরে আরিফের ছোট ভাই অনন্য কবিরের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনিও সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে ফোনের সংযোগ কেটে দেন।

মহানগর নিউজ/এসএ