বুধবার ১৯ জানুয়ারি ২০২২

| মাঘ ৬ ১৪২৮

মহানগর নিউজ :: Mohanagar News

প্রকাশের সময়:
২১:৩৯, ১৪ জানুয়ারি ২০২২

নিজস্ব প্রতিবেদক

স্বাস্থ্য বিভাগ

করোনা সংক্রমণ ঊর্ধ্বমুখী প্রবাসীদের সেবায় রেলের লোক চেয়ে চিঠি

প্রকাশের সময়: ২১:৩৯, ১৪ জানুয়ারি ২০২২

নিজস্ব প্রতিবেদক

করোনা সংক্রমণ ঊর্ধ্বমুখী প্রবাসীদের সেবায় রেলের লোক চেয়ে চিঠি

চট্টগ্রামে দ্রুত বাড়ছে করোনা সংক্রমণ। গত ২৪ ঘন্টায় নতুন শনাক্ত হয়েছে ২৯৬ জন। এ পরিস্থিতিতে করোনা আক্রান্তের চিকিৎসা নিশ্চিত ও সংক্রমণ এড়াতে পুরানো অবকাঠামোকে নতুন করে ঝালাই করে নিতে শুরু করেছে চট্টগ্রামের স্বাস্থ্য বিভাগ। এরই ধারাবাহিকতায় চট্টগ্রাম সিআরবি রেলওয়ে হাসপাতালের আইসোলেশনে ফের লোকবল চেয়ে রেলওয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠি দিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ।

চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন সূত্র জানায়, রেলওয়ের কোভিড-১৯ হাসপাতালে নিয়োজিত ছিল রেলওয়ে হাসপাতালের ১৩ জন কর্মী (পরিচ্ছন্নকর্মী, আয়া, ওয়ার্ড অ্যাটেন্ডেন্ট)। কিন্তু রোগী না থাকায় গত বছরের নভেম্বরে তাদের স্বপদে ফেরত পাঠানো হয়। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে হাসপাতালগুলোতে ফের প্রস্তুতির নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগের শীর্ষ পর্যায় থেকে। তাই আবারও জনবল চেয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে।

রেলওয়ে কোভিড-১৯ হাসপাতালে দায়িত্বরত চিকিৎসকরা জানান, আপাতত আগের ৫০টি বেড প্রস্তুত করা হয়েছে। চিকিৎসক কর্মরত আছেন ৬জন। সেখানে প্রবাস ফেরতদের কেউ কোভিড পজিটিভ হলে তাদের রাখা হবে। পাশাপাশি চট্টগ্রাম শাহ আমানত বিমানবন্দরের পিসিআর টেস্টে কেউ কোভিড পজিটিভ হলে তাদেরও রাখা হবে এ হাসপাতালে।

রেলওয়ে কোভিড-১৯ হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. সৈয়দ নুরুল আফসার মহানগর নিউজকে বলেন, ‘হাসপাতালের জন্য কিছু কর্মী চেয়ে আমরা চিঠি দিয়েছি। রোগী থাকার জন্য হাসপাতাল প্রস্তুত করা হয়েছে। রোগী এলে ভর্তি করানো হবে।’

হাসপাতাল সূত্র জানায়, সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় ২০২০ সালের মে মাসে রেলওয়ে হাসপাতালের একটি অংশ করোনা রোগীর জন্য প্রস্তুত করে চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন কার্যালয়। সে বছর প্রায় ১৯০ জন রোগী ভর্তি করানো হয়। পরে ২০২১ সালের শুরুর দিকে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ শুরু হলে এ ইউনিটটি বিশেষায়িত করা হয় প্রবাসীদের জন্য। অর্থাৎ বিদেশ থেকে আসা প্রবাসীরা সঙ্গনিরোধের জন্য থাকতেন রেলওয়ে হাসপাতালে। করোনার নমুনা পরীক্ষার পর রিপোর্ট নেগেটিভ এলে তারা বাড়ি ফিরতেন। এভাবে সেখানে সেবা পেয়েছে মোট ৯১ জন প্রবাসী। এদের মধ্যে করোনা টেস্টে পজিটিভ এসেছিল ৫ জনের।

চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ ইলিয়াস চৌধুরী মহানগর নিউজকে বলেন, ‘সেখানে এখনও রোগী রাখা শুরু হয়নি। তবে আপদকালীন পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রস্তুত রাখা হচ্ছে হাসপাতালটি।’

হাসপাতালটি ফের কোন ধরনের রোগীর জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে- প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘বিমানবন্দরে যদি কোভিড রোগী ধরা পড়ে তাহলে তাদের সেখানে রাখা হবে। তাছাড়া কোভিড রোগী বেড়ে গেলে তাদেরও রাখা হতে পারে।’  

প্রসঙ্গত, নতুন বছরের ৩ জানুয়ারি থেকে চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে শুরু হয়েছে করোনা টেস্ট। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়, এতে করে নমুনা দেওয়ার তিন ঘণ্টার মধ্যেই করোনার ফলাফল জানিয়ে দেওয়া হচ্ছে। চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে পিসিআর টেস্ট শুরুর পরের দিন অর্থাৎ ৪ জানুয়ারি হাসপাতালে প্রবাসীদের সেবা দিতে জনবল চেয়ে রেল কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠি পাঠায় স্বাস্থ্য বিভাগ। যদিও হাসপাতালটিতে এখনও রোগী ভর্তি শুরু হয়নি।

এপি/এসএ