বৃহস্পতিবার ০২ ডিসেম্বর ২০২১

| অগ্রাহায়ণ ১৮ ১৪২৮

মহানগর নিউজ :: Mohanagar News

প্রকাশের সময়:
১০:৪৪, ১ নভেম্বর ২০২১

নিজস্ব প্রতিবেদক »

প্রথম ধাপে চট্টগ্রামের পাঁচ স্কুলের শিক্ষার্থীরা পাবে করোনা টিকা

প্রকাশের সময়: ১০:৪৪, ১ নভেম্বর ২০২১

নিজস্ব প্রতিবেদক »

প্রথম ধাপে চট্টগ্রামের পাঁচ স্কুলের শিক্ষার্থীরা পাবে করোনা টিকা

করোনার টিকা প্রদান (ফাইল ছবি)

১২ থেকে ১৭ বছর বয়সী শিক্ষার্থীদের করোনার টিকাদান শুরু করেছে সরকার। দেশে প্রথমে পরীক্ষামূলকভাবে ১২০ জন স্কুল শিক্ষার্থীকে টিকা দেয়া হয়। মানিকগঞ্জের চারটি সরকারি বিদ্যালয়ের এসব শিশুকে ফাইজারের টিকা দেওয়া হয়েছে। আজ থেকে ঢাকায় শুরু হলেও  চট্টগ্রামে এখনও টিকাদান কার্যক্রম শুরু হয়নি। তবে চট্টগ্রাম নগরেও টিকা দিতে প্রাথমিকভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে ৫টি স্কুল।  চট্টগ্রাম মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদফতর (মাউশি) থেকে জানা যায় প্রথম ধাপে নগরের পাঁচ স্কুলের ৬টি কেন্দ্রে দেওয়া হবে এসব টিকা। 

আজ সোমবার (১ নভেম্বর) নির্ধারিত পাঁচটি স্কুলের টিকা কেন্দ্র পরিদর্শন করবেন বলে মহানগর নিউজকে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ ইলিয়াস চৌধুরী। প্রথম ধাপে যে পাঁচ স্কুলে করোনার টিকা কেন্দ্র নির্ধারণ করা হয়েছে। সেগুলো হলো নগরের সদরঘাট এলাকার চট্টগ্রাম কলেজিয়েট স্কুল, চট্টেশ্বরী রোডের চট্টগ্রাম গ্রামার স্কুল, পাহাড়তলীর   মির্জা আহমেদ ইস্পাহানি পাবলিক স্কুল, লালখান বাজারে  স্যার মরিস ব্রাউন ইন্টারন্যাশনাল স্কুল, বাংলাদেশ এলিমেন্টারি স্কুলের দামপাড়া  ও মেহেদীবাগ ক্যাম্পাস।

বিষয়টি নিশ্চিত করে  চট্টগ্রাম জেলা  মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার এস এম  জিয়াউল হায়দার হেনরী মহানগর নিউজকে বলেন, চট্টগ্রামেও টিকা কার্যক্রম শুরু হবে। আমরা প্রাথমিকভাবে ৫টি স্কুলে টিকা কেন্দ্র নির্ধারণ করেছি। নির্দেশনা অনুযায়ী টিকাকেন্দ্রগুলো শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত করা হবে। যে কেন্দ্রগুলো নির্ধারণ করা হয়েছে তার মধ্যে দুটির প্রস্তুতি কাজ চলছে। অন্যগুলো প্রস্তুত রয়েছে।

শিক্ষার্থীদের টিকাদান নিয়ে তিনি বলেন, ১২-১৭ বছর বয়সী শিক্ষার্থীদের  টিকা পর্যায়ক্রমে দেওয়া হবে। আমরা যেসব বুথ নির্ধারণ করেছি, সেখানে প্রতিদিনের টিকা প্রতিদিন  দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তবে নির্ধারিত  বুথগুলোতে টিকা সংরক্ষণ করা হবে না। টিকা সরবরাহের কাজ চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন কর্তৃপক্ষ দেখবেন।

চট্টগ্রাম মাউশি'র গবেষণা কর্মকর্তা মো. শোয়াইব মহানগর নিউজকে বলেন,  আমরা চট্টগ্রামের ১২ থেকে  ১৭ বছর বয়সী শিক্ষার্থীদের তালিকা স্বাস্থ্য অধিদফতরে পাঠিয়েছি। নির্দেশনা মোতাবেক শিক্ষার্থীদের  টিকাদান কার্যক্রম তরান্বিত করা হবে।

যেভাবে স্কুল শিক্ষার্থীরা পাবে টিকা

১২ থেকে ১৭ বছর বয়সীদের জাতীয় পরিচয়পত্র নেই। তাই জন্ম সনদ ব্যবহার করে তারা নিবন্ধনের আওতায় আসবে। টিকা নেওয়ার জন্য শিক্ষার্থীকে টিকা কার্ড এবং জন্ম সনদ সঙ্গে নিয়ে স্কুলে আসতে হবে। নিবন্ধন করা না থাকলে টিকা দেওয়া হবে না। প্রতিটি স্কুলের টিকা কেন্দ্রে থাকবেন ডাক্তার। 

স্বাস্থ্য অধিদফতরের গঠিত ভ্যাকসিন কমিটির সদস্য ডা. শামসুল হক জানিয়েছেন,  স্কুল কর্তৃপক্ষ জন্মনিবন্ধনের তালিকা আইসিটি বিভাগকে পাঠাবে। আইসিটি বিভাগ সঠিক করে দেখে সুরক্ষা ওয়েবসাইটে দিয়ে দেবে। তখন প্রতিটি অভিভাবক অথবা স্কুল কর্তৃপক্ষ সুরক্ষার মাধ্যমে নিবন্ধন করবে। নিবন্ধন ছাড়া কোনও টিকা দেওয়া হবে না।এদিকে ফাইজারের টিকা তাপমাত্রা সংবেদনশীল। যে কেন্দ্রে এ টিকা দিতে হয় সেটা শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত হতে হয়। 

টিকা কেন্দ্রের প্রস্তুতি নিয়ে চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ ইলিয়াস চৌধুরী বলেন, ' আমাদের কাছে চিঠি পৌঁছেছে নগরে টিকা কেন্দ্র পরিদর্শনের জন্য। চট্টগ্রাম মাধ্যমিক শিক্ষা (মাউশি) আমাদের ৫ টি স্কুলসহ ৬ টি বুথের নাম দিয়েছে। এসব আজ সরেজমিনে পরিদর্শন কররো আমরা। আমরা সব দেখে মাউশির ডিরেক্টরকে প্রতিবেদন জমা  দেবো। সব ঠিকঠাক থাকলে এরপর চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনসহ স্কুলগুলোতে টিকা দেওয়ার ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।’

প্রসঙ্গত, গত বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী জাহিদ মালেক জানিয়েছেন, আজ (১ নভেম্বর)  থেকে ঢাকার ৮ টি কেন্দ্রে এবং ঢাকার বাইরের ২১টি কেন্দ্রে এ টিকাদান কার্যক্রম শুরু হবে। বর্তমানে দেশে ৭০ লাখ ফাইজারের টিকা রয়েছে। যা দিয়ে ৩০ লাখ শিক্ষার্থীকে টিকা দেওয়া হবে। দেশে ১২ থেকে ১৭ বছর বয়সী শিক্ষার্থী রয়েছে প্রায় এক কোটি। 

 

মহানগর নিউজ /এইচবি/কেডি