বুধবার ১৯ জানুয়ারি ২০২২

| মাঘ ৬ ১৪২৮

মহানগর নিউজ :: Mohanagar News

প্রকাশের সময়:
১৮:০৭, ১২ ডিসেম্বর ২০২১

লোহাগাড়া প্রতিনিধি

ইয়াবার টাকায় ভাগ্য পরিবর্তন দুই বন্ধুর, অবশেষে ধরা!

প্রকাশের সময়: ১৮:০৭, ১২ ডিসেম্বর ২০২১

লোহাগাড়া প্রতিনিধি

ইয়াবার টাকায় ভাগ্য পরিবর্তন দুই বন্ধুর, অবশেষে ধরা!

ইয়াবার সিন্ডিকেট প্রধান রাজু ও ফারুক। এছাড়া, তাদের ব্যহৃত দামি গাড়ি ও মোটরসাইকেল

আমিরাবাদ ইউনিয়নের সুখছড়ি সুন্নিয়া পাড়ার আবদুস ছবুরের ছেলে মো. রাজু (২৭)। তার ছোটভাই মো. সজিব (২৫)। ওরা দু’জন মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান। এদের মধ্যে রাজু বটতলী মোটর স্টেশনের মোবাইল মার্কেটে ছোটখাটো একটি মোবাইলের দোকান চালাতেন। ছোটভাই সজিব সেই দোকানেই কাজ করতেন টেকনিশিয়ান হিসাবে। 

অনুসন্ধানে জানা যায়, বছর দেড়েক আগে রাজু বিয়ে করেন টেকনাফ থেকে। বিয়ের এক বছরের মাথায় ইয়াবা ব্যবসার বদৌলতে পাল্টে গেল তাদের জীবন। ইয়াবা বিক্রির টাকায় কিনেন জায়গা-জমি, বিলাসবহুল গাড়ি, দামি মোটরসাইকেল। এছাড়াও মাছের কয়েকটা প্রজেক্ট, মুরগীর ফার্মসহ দোকানও প্রতিষ্ঠা করেন। রাতারাতি রাজুর বদলে যাওয়ার চিত্র দেখে হতবাক স্থানীয়রাও। ছোটভাই সজীব বিভিন্নস্থানে পৌঁছে দিনে ইয়াবার চালান।

আরও পড়ুনঃ

 

আমিরাবাদ ইউনিয়নের সুখছড়ি শাহপীর প্রকাশ চর পাড়ার সুলতান আহমদের ছেলে ওমর ফারুক (২৯)। দেড় বছর আগে সৌদি আরব থেকে দেশে ফিরে আমিরাবাদ পুরাতন বিওসি এসে পুরাতন মোটরসাইকেল দোকান দেন। ফারুক ও রাজু বাল্যকালের বন্ধু।   

দোকানে আসা-যাওয়া মধ্যে দুজনেই সিন্ডিকেটে শুরু করেন ইয়াবা ব্যবসা। এলাকার আরো যুবকদেরও টেনে আনেন এই ব্যবসায়। এলাকায় তৈরি হয় শক্ত ইয়াবা বিক্রির সিন্ডিকেট। 

নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় এক বাসিন্দা জানান, ইয়াবার ব্যবসার টাকায় রাতারাতি আঙুল ফুলে কলাগাছ বনে যান ফারুকও। কিনেছেন বিলাসবহুল প্রাইভেট কার, দামি মোটরসাইকেলসহ অঢেল জায়গা-জমি। বাড়ির ভেতর বানিয়েছেন সুইমিং পুল।

কিন্তু শেষ রক্ষা হলো না তাদের। রোববার (১২) ডিসেম্বর সকাল ৭টার সময় পেকুয়ার হরিণা ফাঁডির নুইন্যা ব্রিজ এলাকা থেকে ৫০ হাজার ইয়াবাসহ ৭ জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ।  এর ফলে দুই সহোদরসহ পুরো সিন্ডিকেটের বিষয়টি প্রকাশ্যে চলে আসে। এসময় ইয়াবা পাচারে ব্যবহৃত একটি প্রিমিও কার, একটি সুজুকি জিক্সার, একটি ইয়ামাহা ফেজার মোটর সাইকেল জব্দ করা হয়।   

আটক সবাই আমিরাবাদ ইউনিয়নের সুখছড়ি এলাকার বাসিন্দা। আটকের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়। 

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, আটক ৭ জনের মধ্যে প্রধান রাজু ও ফারুক। দু’জনের নেতৃত্বে এলাকায় গড়ে উঠেছে শক্ত ইয়াবার  সিন্ডিকেট। ইয়াবা ব্যবসার টাকায় মাত্র দেড় বছরে কোটিপতি বনে যান তারা দু’জন। 

জানা যায়, কক্সবাজারের উখিয়ার কোটবাজার এলাকা থেকে ইয়াবাগুলো পাইকারি দামে ক্রয় করে পেকুয়া হয়ে লোহাগাড়া নিয়ে আসার পথে ফারুক আর সজি সহ আটক হন মোট ৭ জন। বাকিরা হলেন- আমিরাবাদ ইউনিয়নের নবী হোসেনের ছেলে শহীদুল ইসলাম (২৮), আলী আহমদের ছেলে জয়নাল আবেদীন (৪৮) ওরফে ডিস জয়নাল, মাহবুবুল আলমের ছেলে রিদুয়ানুল করিম (২২),  মৃত সাধন চৌধুরীর ছেলে ডাবলু চৌধুরী (৪১)। 

আমিরাবাদ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এস এম ইউনুস মহানগর নিউজকে বলেন, ‌‌‌‘আমার এলাকার ৭ জন মাদক কারবারি পেকুয়া থানায় আটক হওয়ার বিষয়টি কয়েকজন লোক ফোন করে আমাকে জানিয়েছেন। পরে তাদের বিষয়ে খোঁজ নিয়ে জানতে পারি, ওরা সবাই চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী।’

এ বিষয়ে পেকুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘আটকদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা রুজু করে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হবে।’

মহানগর নিউজ/এআই

সম্পর্কিত বিষয়: