বুধবার ১৯ জানুয়ারি ২০২২

| মাঘ ৬ ১৪২৮

মহানগর নিউজ :: Mohanagar News

প্রকাশের সময়:
১১:৫৯, ২ ডিসেম্বর ২০২১

বান্দরবান প্রতিনিধি

পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তির দুই যুগ

পাহাড়ে থামেনি সংঘাত, আধিপত্যের লড়াই

প্রকাশের সময়: ১১:৫৯, ২ ডিসেম্বর ২০২১

বান্দরবান প্রতিনিধি

পাহাড়ে থামেনি সংঘাত, আধিপত্যের লড়াই

১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর পার্বত্য শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরের পর অস্ত্র সমর্পণের সেই ঐতিহাসিক মুহূর্ত

পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তির দুই যুগ পূর্তি আজ। এ দীর্ঘ সময়ে বান্দরবানে যেমন স্বাভাবিক উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ত্বরান্বিত হয়েছে, তেমনিভাবে বেড়েছে সংঘাতও। পাহাড়ের অন্য দু’টি জেলার মতো আধিপত্যের লড়াইয়ে যুক্ত হয়েছে বান্দরবানের নাম। ফলে সম্প্রীতির বান্দরবানে দেখা দিয়েছে অশান্তির কালো মেঘ। সাম্প্রতিক সময়ে অন্ততঃ ১০ আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীসহ জেএসএস, ইউপিডিএফ (গণতান্ত্রিক) এবং নিরীহ অসংখ্য মানুষ খুনের শিকার হয়েছে আন্তঃকোন্দল আর চাঁদাবাজির ঘটনায়। কেউ বলছে, চুক্তির পুর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন ছাড়া এই সঙ্কট দূর হবে না। আবার অন্যপক্ষের মত, চুক্তি এবং সাংঘর্ষিক ধারা বাতিল করতে হবে। 

১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর পার্বত্যাঞ্চলের অন্ধকার জগৎ থেকে সরকারের সঙ্গে চুক্তির মাধ্যমে আলোর পথে এসেছিল জনসংহতি সমিতি (জেএসএস)। কিন্তু দুই যুগ পরও পাহাড়ে থামেনি সংঘাত। বান্দরবানে বেড়েছে খুন, চাঁদাবাজি, অপহরণ। জন্ম হয়েছে একাধিক গ্রুপ। যাদের বিরুদ্ধে কোটি কোটি টাকা চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে। গ্রুপ-উপগ্রুপের আধিপত্যের খেলায় নির্মম খুন আর অপহরণের শিকার হয়েছে এখানকার নীরিহ মানুষ। 

এ প্রসঙ্গে পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি কাজী মুজিবর রহমান বলেন, পার্বত্য চুক্তির যেসব ধারা সাংঘর্ষিক তা অবশ্যই বাতিল করতে হবে। এছাড়া জেলা পরিষদ, আঞ্চলিক পরিষদের নির্বাচন, হিলট্যাক্স ম্যানুয়েল বাতিল, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারসহ অস্থায়ী সেনা ক্যাম্প পুনঃস্থাপন করা না হলে পাহাড়ে শান্তি ফিরে আসবে না। 

বান্দরবান জেলা আওয়ামী লীগ যুগ্ম সম্পাদক লক্ষ্মীপদ দাশ বলেন, শান্তি চুক্তির ফলে পাহাড়ে সামাজিক, অর্থনৈতিক অগ্রগতি সাধিত হয়েছে। শীঘ্রই চুক্তির সমগ্র ধারা-উপধারা বাস্তবায়িত হবে। তবে এজন্য সবাইকে আন্তরিকভাবে এগিয়ে আসতে হবে। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, অবৈধ অস্ত্রের কারণে পাহাড়ে হত্যা, গুম, চাঁদাবাজি হচ্ছে। তারা আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের বেছে বেছে হত্যা করছে। 

এদিকে শান্তি চুক্তি নিয়ে গত কয়েক বছর বান্দরবানে আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি থেকে দূরে রয়েছে জনসংহতি সমিতি (জেএসএস)। দলটির জেলা পর্যায়ের কোনো নেতাকর্মী চুক্তির দুই যুগ পূর্তি নিয়ে আনুষ্ঠানিক কথা বলতে রাজি হননি। তবে চুক্তির পক্ষের নেতারা অভিযোগ তুলেছেন, শান্তিচুক্তির ৭২টি ধারার মধ্যে দুই-তৃতীয়াংশ ধারা এখনও বাস্তবায়ন করেনি সরকার। ভূমি বিরোধের স্থায়ী সমাধান হয়নি। অপপ্রচার, মামলা আর হয়রানির মাধ্যমে এলাকা ছাড়া করা হচ্ছে তাদের নেতাকর্মীদের। 

এ বিষয়ে এনজিও কর্মী লেনিং খুমি বলেন, প্রতি বছরের মতো এবারও বান্দরবানে আনুষ্ঠানিকভাবে চুক্তির বর্ষপূর্তি পালিত হচ্ছে না। তিনি আরও বলেন, পাহাড়ের মানুষের আশা ছিল বর্তমান সরকারের সময়ে চুক্তি পূর্ণ বাস্তবায়ন হবে। কিন্তু তা হয়নি। 

অন্যদিকে চুক্তি বাতিলের পক্ষে নয়, সকল সম্প্রদায়ের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে চুক্তি বাস্তবায়ন এবং পাহাড়ে শান্তি ফেরাতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (গণতান্ত্রিক) দলের বান্দরবান জেলা সভাপতি মংপু মারমা। তিনি উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি, উদ্বাস্তুদের পুনর্বাসন এবং অস্ত্রের ঝনঝনানি বন্ধের আহ্বান জানান।

চুক্তির পরও পাহাড়ে চাঁদাবাজি, অস্ত্রের ঝনঝনানি থামেনি। চুক্তির সুফল হিসেবে যাতে পাহাড়ে সকল সম্প্রদায়ের মানুষ শান্তিতে ঘুমাতে পারে- তার ব্যবস্থা গ্রহণে সরকারের প্রতি দাবি জানিয়েছেন ইউপিডিএফ (গণতান্ত্রিক) দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সুলেন চাকমা। 

শান্তিচুক্তির ফলে এই অঞ্চলে উন্নয়নের যে ধারাবাহিকতা তৈরি হয়েছে তা অব্যাহত রাখতে প্রয়োজন সৃষ্ট সংঘাত বন্ধ করা। আর সম্প্রীতি ও সম্ভাবনার এই অঞ্চলে চলমান হানাহানি বন্ধ হবে, ফিরে আসবে শান্তি- এটাই এখানকার সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা। 

মহানগর নিউজ/আরসি