বৃহস্পতিবার ০২ ডিসেম্বর ২০২১

| অগ্রাহায়ণ ১৮ ১৪২৮

মহানগর নিউজ :: Mohanagar News

প্রকাশের সময়:
১৭:০৬, ২৫ নভেম্বর ২০২১

তুষার তুহিন, কক্সবাজার

কক্সবাজার সৈকতে নেই ডুবুরি দল ও প্রাথমিক চিকিৎসা ব্যবস্থা

প্রকাশের সময়: ১৭:০৬, ২৫ নভেম্বর ২০২১

তুষার তুহিন, কক্সবাজার

কক্সবাজার সৈকতে নেই ডুবুরি দল ও প্রাথমিক চিকিৎসা ব্যবস্থা

কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত

সারা বছরই সমুদ্রের নোনা জলে ঢেউয়ের তালে গা ভাসাতে কক্সবাজার ছুটে আসে লাখ লাখ পর্যটক। কিন্তু বিশ্বের দীর্ঘতম এই সমুদ্র সৈকতে নেই পর্যটকদের চিকিৎসার কোন ব্যবস্থা, সাগর থেকে উদ্ধারের জন্য নেই ডুবুরি দল। এমনকি রাতের সমুদ্র সৈকতে নিরাপদ ভ্রমণের জন্য নেই পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থাও। এনিয়ে বছরের পর বছর ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে সৈকতের ব্যবসায়ী ও পর্যটকরা। 

যদিও জেলা প্রশাসন জানিয়েছেন, খুব শিগগির সমুদ্র সৈকতের ৫টি পয়েন্টে প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হবে। 

স্থানীয় সূত্র জানায়, সমুদ্র সৈকতের লাবনী পয়েন্ট থেকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালের দূরত্ব প্রায় দুই কিলোমিটার। অন্যান্য পয়েন্ট থেকে এর দূরত্ব আরও বেশি। আর এই দীর্ঘ দূরত্বের পথ অতিক্রম করেই প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য সদর হাসপাতালে যাওয়া অত্যন্ত কষ্টকর ও ভোগান্তির। 

এ বিষয়ে  ভিস্তা বে রিসোর্টের স্বত্ত্বাধিকারী ও কক্সবাজার প্রেসক্লাবের সভাপতি আবু তাহের বলেন, ‘বিশ্বের অন্যান্য দেশের সমুদ্র সৈকতে পর্যটকদের উদ্ধারের জন্য ডুবুরি দল, চিকিৎসা সেবাকেন্দ্র এবং রাতে পর্যাপ্ত আলোর ব্যস্থা রয়েছে। এর বিপরীত চিত্রই কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে বিরাজমান। পর্যটকদের ভ্রমণকে নির্বিঘ্ন করতে হলে তাদের জন্য সকল সেবার ব্যবস্থা করতে হবে।’

সী সেইভ লাইফ গার্ডের কক্সবাজার ইনচার্জ মো. রাশেদুল আলম জানান, ‘গোসল করতে গিয়ে সমুদ্রে ডুবে যাওয়া পর্যটকদের উদ্ধার করতে কাজ করি আমরা। কিন্তু আমরা ডুবুরি নই। মাঝেমধ্যে তলিয়ে যাওয়া পর্যটকদের খুঁজে পেতে ব্যর্থ হই। এছাড়া প্রায়ই ছোট বাচ্চারা দৌঁড়াতে গিয়ে শরীরের নানা স্থানে আঘাত পায়। আবার অনেক পর্যটক গোসল করতে নেমে প্রবল বেগে ছুটে আসা ঢেউয়ে আঘাত পায়। এদেরকে প্রাথমিক চিকিৎসা নিতে দূরের হাসপাতালে যেতে হয়। কিন্তু যদি সৈকতের কাছে প্রাথমিক চিকিৎসা কেন্দ্র থাকে তাহলে পর্যটকদের সমুদ্র ভ্রমণ আরও নিরাপদ হতো।’ 

সমুদ্র সৈকতে বেড়াতে আসা ভুক্তভোগী কুমিল্লার তাসলিমা তাসমিম লিমা বলেন, ‘স্বামী-সন্তান নিয়ে কক্সবাজার বেড়াতে এসেছি। আমার ছোট্ট ছেলেটা দৌড়াতে গিয়ে ব্যথা পেয়েছে। কিন্তু এখানে প্রাথমিক চিকিৎসা কেন্দ্র না থাকায় দুই কিলোমিটার দূরে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে যেতে হয়েছে।’ 

কক্সবাজার বীচ ম্যানেজমেন্ট কমিটির সদস্য ও কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক সিরাজুল মোস্তফা বলেন, ‘গোসল করতে নেতে পানিতে ভেসে যাওয়া লোকজনকে উদ্ধারের পরে শরীরের অবস্থা খারাপ থাকে। তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা এবং হাসপাতালে নিয়ে সহযোগিতা করেন লাইফ গার্ডের সদস্যরা। তবে এতটুকুই যথেষ্ট নয়। ওখানে প্রয়োজন ভ্রাম্যমাণ চিকিৎসা কেন্দ্র।’  

তিনি আরো বলেন, সর্বাধুনিক সেবা নিশ্চিত করার মাধ্যমে বিশ্ব দরবারে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতকে উপস্থাপন করতে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা দরকার।

ইয়াছির লাইফ গার্ডের ইনচার্জ মোস্থাফা কামাল বলেন, ‘ইয়াছির লাইফ গার্ডসহ অন্যান্য লাইফ গার্ডের সদস্যরা সমুদ্র পাড়ে অসুস্থ রোগীদের সহযোগিতা করেন। তারা তাদের তাৎক্ষণিক হাসপাতালে নিতে সহযোগিতা করেন। তারা প্রশিক্ষণ নিয়েছে সমুদ্রে ভেসে যাওয়া লোকজনকে উদ্ধারের পরে প্রাথমিক চিকিৎসা দিতে। তবে সঠিক চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে পেশাদার চিকিৎসক দিয়ে চিকিৎসা করানো প্রয়োজন।’

কক্সবাজার ট্যুরিস্ট পুলিশ সুপার মো. জিল্লুর রহমান বলেন, ‘লাবনী পয়েন্ট থেকে ডায়াবেটিস পয়েন্ট পর্যন্ত সন্ধ্যার পর অন্ধকার থাকে। এখানে দ্রুত লাইটিং ব্যবস্থা করা দরকার। এছাড়া পর্যটকদের সেবার মান বাড়াতে মেডিকেল টিম ও ডুবুরি দল ভীষণ প্রয়োজন।’

কক্সবাজারের অতিরিক্তি জেলা প্রশাসক (সার্বিক) আল আমিন পারভেজ বলেন, ‘সমুদ্র সৈকতে প্রাথমিক চিকিৎসা ব্যবস্থা খুবই জরুরী। আশা করছি অতি শিগগির সৈকতের বিভিন্ন পয়েন্ট থেকে পর্যটকরা প্রাথমিক চিকিৎসা সেবা নিতে পারবে।’

বীচ ম্যানেজমেন্ট কমিটির দায়িত্বপ্রাপ্ত কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) আবু সুফিয়ান বলেন, ‘ডুবুরি দলের কাজ খুবি ভালভাবেই পালন করছে লাইফ গার্ডের সদস্যরা। তাই আপাতত আমরা ডুবুরি দল নিয়ে ভাবছি না। তবে এই শীত মৌসুমের মধ্যেই সমুদ্র সৈকতের লাবনী, সুগন্ধা, কলাতলী, ইনানী ও পাটুয়ারটেক পয়েন্টে প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এজন্য ওইসব পয়েন্টের চেঞ্জিং রুমের পাশেই প্রাথমিক চিকিৎসা পয়েন্ট খোলা হচ্ছে। সেবা দানের জন্য জনবল নিয়োগ দেয়া হচ্ছে।’

মহানগর নিউজ/এআই