বুধবার ১৯ জানুয়ারি ২০২২

| মাঘ ৬ ১৪২৮

মহানগর নিউজ :: Mohanagar News

প্রকাশের সময়:
২২:০১, ২৪ ডিসেম্বর ২০২১

তুষার তুহিন

৩ মাস ধরে স্বামী-সন্তানসহ কক্সবাজারে 

‘ধর্ষিতা নারীর’ সঙ্গে অপরাধ জগতের বাদশা আশিকের হট কানেকশন

প্রকাশের সময়: ২২:০১, ২৪ ডিসেম্বর ২০২১

তুষার তুহিন

‘ধর্ষিতা নারীর’ সঙ্গে অপরাধ জগতের বাদশা আশিকের হট কানেকশন

ধর্ষণ মামলার প্রধান আসামি আশিকুল

‘কক্সবাজারে বেড়াতে এসে ধর্ষণের শিকার নারী’- এ খবরে তোলপাড় সারাদেশ। তবে দুদিন না যেতেই ঘটনার মোড় নিয়েছে অন্যদিকে। বেরিয়ে আসতে শুরু করেছে আসল ঘটনা। ধর্ষণের শিকার ওই নারীর সঙ্গে কক্সবাজারের অপরাধ জগতের বাদশা আশিকের পূর্ব পরিচয় রয়েছে এমন তথ্য প্রমাণ পেয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। শুধু তাই নয়, ওই নারী ও তার স্বামী কক্সবাজার অবস্থান করছেন গত তিনমাস ধরে। 

এ পর্যন্ত তারা ৭টি হোটেলে অবস্থান করেছেন। তিনমাস ধরে কক্সবাজারে অবস্থান করে অপরাধী চক্রের সঙ্গে যোগসাজশে মাদক ব্যবসা ও অনৈতিক কার্যকলাপের সঙ্গে সরাসরি জড়িত তারা। ওই নারী পুলিশের কাছে বিষয়টি স্বীকার করেছেন বলেও দাবি করেছেন জেলা পুলিশের কর্মকর্তারা।  

কক্সবাজার জেলা পুলিশ সুপার মো. হাসানুজ্জামান বলেন, প্রাথমিক অনুসন্ধান ও ভিকটিম এবং মামলার বাদীকে আলাদাভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করে আমরা জানতে পেরেছি ওই নারী ও তার স্বামী গত তিনমাস ধরে কক্সবাজার শহরের বিভিন্ন হোটেল কক্ষ ভাড়া নিয়ে অবস্থান করছেন। ভিকটিমের সাথে অভিযুক্ত সন্ত্রাসী গ্রুপটির পূর্ব পরিচয় রয়েছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, তিন মাস আগে ওই নারী স্বামী সন্তান নিয়ে কক্সবাজার শহরে আসেন। তখন থেকে বিভিন্ন হোটেলে অবস্থান করছেন তারা। এরমধ্যে লাইট হাউজ পাড়ার আরমান কটেজে ২-১৫ নভেম্বর পর্যন্ত অবস্থান করছেন। পরে তাদের শিশু সন্তানের চিকিৎসার জন্য ঢাকায় গিয়ে ৫দিন পর ফিরে এসে আবার আরমান কটেজে উঠেন। সেখানে থাকেন ৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত। 

ওই হোটেলের ম্যানেজার মো. হাসান বলেন, কিশোরগঞ্জ সদরের পরিচয় দিয়ে ওই নারী ও তার স্বামী দৈনিক হাজার টাকা ভাড়ায় আমাদের কটেজে অনেকদিন ছিলেন। বেশিরভাগ সময় বাচ্চা নিয়ে হোটেলে থাকতেন ওই নারীর স্বামী। তিনি বাইরে যেতেন। তবে কোথায় যেতেন, কি করতেন আমরা জানিনা।

৬ ডিসেম্বর ওই দম্পতি আরমান কটেজের বিপরীতে দার অল এহেছান কটেজে উঠেন। পরদিন তাদেরকে সেখান থেকে বের করে দেয় কর্তৃপক্ষ।  

এ বিষয়ে হোটেল মালিক আলি আকবর বলেন, ৬ ডিসেম্বর রাত ১০টার দিকে হোটেলের সামনে আশিকের সঙ্গে ওই নারীর স্বামীর কথা কাটাকাকাটি হয়। বিষয়টি আমার নজরে আসলে আমি ওই নারীর স্বামীর কাছে জানতে চাই কি সমস্যা? কিন্তু তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। এ কারণে আমি তাদেরকে আমার হোটেল থেকে বের করে দেই। সেখান থেকে তারা একটু দুরে অন্য একটি কটেজে উঠেন। ওই কটেজে ছিলেন ২২ ডিসেম্বর পর্যন্ত। ওখান থেকে তারা হলিডের মোড়ের সীল্যান্ড হোটেলে উঠেন ঘটনার দিন ২২ ডিসেম্বর বিকেল ৩টায়। ওইদিন সন্ধ্যা ৬টায় ওই নারীকে হোটেল সীক্রাউনের সামনে থেকে সিএনজি অটোরিকশায় তুলে নেয় আশিক। এরপর সেখান থেকে তাকে মোটেল রোড়ের সৈকত পোস্ট অফিসের ছেনুয়ারের ঝুপড়ি চায়ের দোকানে নিয়ে যায় সন্ত্রাসী আশিক। 

আশিক ঝুপড়ি চায়ের দোকানে সিএনজি অটোরিকশা করে ওই নারীকে নিয়ে যাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেন ভিকটিম নিজেই। 

এ প্রসঙ্গে ঝুপড়ি চায়ের দোকানের মালিক ছেনুয়ারা বেগমের সঙ্গে কথা হয়। তিনি বলেন, আশিক এক নারীকে নিয়ে ২২ ডিসেম্বর রাত ৮টার দিকে আমার এখানে আসেন। এরপর ওই নারীকে দিয়ে তার স্বামীকে ফোন করান। সেসময় ওই নারী স্বামীকে মুঠোফোনে বলেন, তুমি নাকি আশিক ভাইয়ের সাথে বেয়াদবি করেছো। তুমি এখানে আসো, আমি আছি। আশিক ভাই তোমাকে কিছু করবে না। পরে ওই নারীর স্বামী একটি বাচ্চাকে নিয়ে আমার দোকানে আসেন। তখন আশিক কিছুক্ষণ এখানে অবস্থান করেন। তারপর ওই নারীকে মোটরসাইকেলে করে নিয়ে চলে যান। সেদিন আশিক আমার দোকানের একটু দূরে এক কিশোরকে ছুরির ভয় দেখিয়ে টাকা, মোবাইলসহ সব ছিনিয়ে নেয় বলেও জানান ওই দোকানি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ভিকটিম নারী বলেন, আশিক চায়ের দোকানে আমাকে ধর্ষণ না করলেও তার বন্ধুরা দোকানের পেছনে নিয়ে আমাকে ধর্ষণ করে। পরে আমার স্বামী ও সন্তানকে মেরে ফেলার ভয় দেখিয়ে আমাকে মোটরসাইকেল করে নিয়ে জিয়া গেস্ট ইনে তুলেন। আমি আশিকের পেছনে ছিলাম। মোটরসাইকেল আশিক চালাচ্ছিল। আর কেউ ছিল না। 

এদিকে জিয়া গেষ্ট ইনের পরিচালক রায়হান বলেন, আশিক ও ওই নারী স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে সাবলীলভাবে হোটেল আসেন। এখানে নারী নিজেকে সাথী হিসেবে পরিচয় দেন। পরে একটি কক্ষে ৪০ মিনিট অবস্থান করেন তারা। পরে আশিক বেরিয়ে যান। একটু পর আমার হোটেল ম্যানেজার গিয়ে দরজা খুলে দিলে নারী রুম থেকে বেরিয়ে চলে যান। এর অনেক পরে ওই নারীও তার স্বামী র‌্যাবসহ আমার হোটেলে আসেন এবং আমার ম্যানেজারকে আটক করে নিয়ে যান।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ওই মহিলা ও তার স্বামীকে সন্তানসহ মোটেল লাবনী থেকে উদ্ধার করে র‌্যাব। তবে র‌্যাব বলছে ভিন্নকথা। 

র‌্যাব-১৫ এর কক্সবাজার কোম্পানি কমান্ডার মেজর মেহেদী হাসান বলেন, ওই নারীকে উদ্ধার করতে আমরা হোটেল মোটেল জোনে ব্লক রেইড দেই। এ খবর জানতে পেরে অভিযুক্তরা ওই নারীকে হোটেল কক্ষে বন্দি করে পালিয়ে যায়। পরে প্রধান অভিযুক্ত আশিকের বন্ধু ওই হোটেলের ম্যানেজার কক্ষ খুলে দিলে নারী হোটেলের সামনে চলে আসে। তখন আমরা তাকে উদ্ধার করি। এরপর তার স্বামী ও সন্তানকে লাবনী হোটেলের সামনে থেকে উদ্ধার করি। 

এদিকে শহরের বিভিন্ন হোটেলে থাকা সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, ওই নারীর সঙ্গে আশিককে প্রায়ই সময় ঘুরতে দেখা যেত। ঘটনার ৪ দিন আগেও (১৮ ডিসেম্বর) তাদের একই মোটরসাইকেলে ঘুরতে দেখা যায়।

এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে লাইট হাউজ এলাকার এক ব্যবসায়ী জানান, আশিক ও তার গ্রুপ ইয়াবা, মদ সাপ্লাই দেয় হোটেল মোটেল জোনে। তাদের হয়েই বিভিন্ন হোটেলে মাদক, নারী সাপ্লাই করতো ওই মহিলা।

ট্যুরিস্ট পুলিশের কক্সবাজার পুলিশ সুপার জিল্লুর রহমান বলেন, ভিকটিমের বক্তব্য অসামঞ্জস্য। ৯৯৯ এ কল করার কথাও সত্য না।ওই নারী ও তার স্বামীকে পর্যটক বলা যাবে না। কারণ তারা ব্যবসায়িক উদ্দ্যেশেই এখানে অবস্থান করছেন। তবে তাদের মামলাটি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। আজ আদালতে ২২ ধারায় জবানবন্দী দিয়েছে ভিকটিম।
 
৯৯৯-এ কল করেনি ওই নারী

ভিকটিম ৯৯৯-এ সাহায্য চেয়ে কল করার কথাটি মিথ্যাচার করেছেন বলে জানিয়েছে কক্সবাজার জেলা পুলিশ। কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রফিকুল ইসলাম বলেন, অভিযুক্ত ও ক্ষতিগ্রস্তরা পূর্ব পরিচিত। দুপক্ষই একসময় একসাথে কাজ করতো বলে প্রাথমিক তদন্তে জানতে পেরেছি। 

তিনি আরও বলেন, এই দম্পতি গেল তিন মাস আগে ৯৯৯-এ কল করে শ্লীলতাহানি ও ছিনতাইয়ের অভিযোগ করেন। তখন আমরা তাদের উদ্ধার করি। তখন তারা বাহারছড়া ফাহিম ও বাবু নামের দুজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছিলেন। অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত চলছে। এছাড়া গেল মাসের ৮ তারিখ ওই নারী তার স্বামীর বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসা, মাদকসেবনসহ তাকে নির্যাতনের অভিযোগ করেন ৯৯৯-এ কল করে। তখন ওই নারী আরো জানিয়েছিলেন- তার স্বামী আগের বিয়ে গোপন করে তাকে বিয়ে করেছেন। আমরা তাকে লিখিত অভিযোগ দিতে বলি। কিন্তু ২২ ডিসেম্বর রাতে ওই নারী ৯৯৯-এ কোন কল করেননি। অযথা মিথ্যাচার করেছেন। 

কক্সবাজারের অপরাধ জগতের বাদশা আশিক

কক্সবাজার পৌরসভার ১১ নং ওয়ার্ডের মধ্যম বাহারছড়ার মৃত মাষ্টার আবদুল করিমের ছেলে আশিকুল ইসলাম আশিক (২৯) পুলিশের তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী। তার বিরুদ্ধে কক্সবাজার সদর থানায় হত্যা চেষ্টা, ধর্ষণ, নারী ও শিশু নির্যাতন, চাঁদাবাজি, ছিনতাই, ডাকাতি, মাদক, অস্ত্র ও  দ্রুত বিচার আইনে ১৭টি মামলা রয়েছে। তাকে শহরের হোটেল মোটেল জোনের ব্যবসায়ীরা চিনে অপরাধ জগতের বাদশা হিসেবে। তাকে প্রধান আসামি করে ও তার তিন সন্ত্রাসী গ্রুপের তিনজনের নাম উল্লেখ করে কক্সবাজার সদর থানায় বৃহস্পতিবার রাতে ধর্ষণ মামলা করেছেন পর্যটক পরিচয়ে এক মহিলার স্বামী।

কক্সবাজার সদর থানার ওসি মুনিরুল গিয়াস বলেন, আশিকের বিরুদ্ধে কক্সবাজার সদর থানায় বৃহস্পতিবার দায়ের হওয়া ধর্ষণ মামলাসহ ১৭টি মামলা রয়েছে। গত ৭ নভেম্বর তাকে আমরা একটি ছিনতাই মামলায় গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যম কারাগারে পাঠাই। তবে সে ১৫ নভেম্বর জামিনে বের হয়ে আসে। 

তিনি আরও বলেন, স্বামী ও সন্তানকে জিম্মি করে গৃহবধূ ধর্ষণের ঘটনায় আশিক, তার বন্ধু ও সহযোগী ইস্রাফিল হুদা জয় প্রকাশ জয়া, মেহেদী হাসান বাবু ও  জিয়া গেষ্ট ইন হোটেলের ম্যানেজার রিয়াজ উদ্দিন ছোটনসহ অজ্ঞাতনামা তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে ভিকটিম নারীর স্বামী। 

এদিকে শহরের কলাতলী রোড়ের সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের বিপরীত পাশের কটেজ জোনে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, কারাগার থেকে বেরিয়ে আশিক আরো ভয়ংকর হয়ে ওঠে। রাত ১০টার পর মোটরসাইকেল যোগে দুজন সঙ্গী নিয়ে কটেজে কটেজে হামলা করে নগদ টাকা মোবাইল সেট লুট করে নিয়ে যায়। গত ২৪ নভেম্বর এক হোটেল মালিককে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ৬০ হাজার টাকা ও তার পরদিন আরেক কটেজ মালিককে জিম্মি করে ১ লাখ টাকা লুট করে আশিক ও তার সঙ্গীরা। 

এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে কটেজ জোনের এক ব্যবসায়ী বলেন, আশিক যেসব কটেজে ডুকে গণ্ডগোল কিংবা লুটপাট চালায় সেসব হোটেলগুলো অবৈধ কার্যকলাপের সঙ্গে জড়িত। এ কারণে হোটেল মালিকরা আইনের আশ্রয় নেয় না। 

পুলিশ, আদালত ও স্থানীয় সূত্র জানায়, কিশোর বয়সেই আশিকের অপরাধের জগতের পথচলা শুরু। ছোটবেলা থেকে আশিক মারামারি, চুরি ছিনতাইয়ের সাথে জড়িত। ২০১১ সালের ২০ আগস্ট তার বিরুদ্ধে কক্সবাজার সদর থানায় মারামারি আইনে প্রথম মামলা দায়ের হয়। এর ১০ মাস পর ২০১২ সালের ২০ জুলাই একই থানায় তার বিরুদ্ধে হত্যা চেষ্টায় গুরুত্বর জখম আইনে মামলা হয়। এর পরে ২০১৪ সালের ১৪ জানুয়ারি একই থানায় একই ধারায় আরেকটি মামলা হয়। একই বছরের ১৫ সেপ্টেম্বর ডাকাতির চেষ্টার দায়ে অস্ত্র আইনে একটি এবং হত্যা প্রচেষ্টার দায়ে অপর একটি মামলা হয়। পরের বছর ২০১৫ সালের ৫  মার্চ তার বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা হয়। ওই বছরের ২১ নভেম্বর আশিকের বিরুদ্ধে সদর থানায় অস্ত্র ও ডাকাতির প্রস্তুতি আইনে পৃথক দুটি মামলা হয়। ২২ নভেম্বর ফের আরেকটি ডাকাতির মামলা হয় তার বিরুদ্ধে। অপরাধীদের বাদশা আশিকের বিরুদ্ধে ডাকাতি আইনে আবারো মামলা হয় ২০১৮ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর। একই বছরের ১৪ অক্টোবর ফের অস্ত্র আইনে ও পরদিন মাদক নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা হয়। চলতি বছরের ৩০ জুন আশিকের বিরুদ্ধে আরেকটি হত্যা চেষ্টা মামলা ও ৭ নভেম্বর ডাকাতির প্রচেষ্টার এবং সর্বশেষ ২৩ ডিসেম্বর এক গৃহবধূকে ধর্ষণ মামলা হয়।

আশিকের সন্ত্রাসী বাহিনী

গৃহবধূকে ধর্ষণ মামলার প্রধান আসামি আশিকুল ইসলামের রয়েছে নিজস্ব সন্ত্রাসী বাহিনী। ওই মামলার অপর অভিযুক্তরা তার গ্রুপেরই সদস্য। তার এই গ্রুপে রয়েছে বাহারছড়া, কলাতলী, লাইট হাউজ ও সমিতি পাড়া ৬০/৭০ জন উঠতি যুবক। তাদের মধ্যে অন্যতম বাহারছড়া মোবারক, ফাহিম, বাবু, মেহেদী হাসান বাবু, জয়াসহ আরো কয়েকজন। এদের সবার বিরুদ্ধে ইয়াবা, মারামারি, ছিনতাই, হোটেল-মোটেল জোন থেকে চাঁদাবাজী, জোরপূর্বক ধর্ষণসহ নানা অভিযোগ রয়েছে। ক্ষমতাসীন দলের ছাত্র সংগঠন কক্সবাজার জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেনের অনুসারী কিংবা আশীর্বাদপুষ্ট হিসেবে এরা শহরে পরিচিত। সাদ্দামের সাথে তাদের অনেক ঘনিষ্ঠ মুহূর্তের ছবি ফেসবুকে ঘুরে বেড়াচ্ছে। সর্বশেষ ২১ ডিসেম্বর সাদ্দাম হোসেনের সেলফিতে বন্দী হন আশিক ও তার সঙ্গীরা। সভাপতি সাদ্দামের মাধ্যমেই এই সন্ত্রাসীরা সখ্যতা গড়ে তোলেন কক্সবাজার সদর-রামু আসনের সংসদ সদস্য সাইমুম সরওয়ার কমলের সাথে। সাংসদ কমলের সাথে ঘনিষ্ঠতার কয়েকটি ছবি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে।  

এ বিষয়ে কক্সবাজার পৌরসভার সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর নাছিমা আকতার বলেন, আশিক ও তার বন্ধুরা বাহারছড়াসহ আশেপাশের এলাকার জন্য আতঙ্ক। তাদের ভয়ে কেউ মুখ খুলে না। এরা অনেকেই ইয়াবা ব্যবসার সঙ্গে জড়িত।

কক্সবাজার জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি এসএম সাদ্দাম হোছাইন বলেন, আমি ছাত্রলীগের সভাপতি হওয়ার পর অনেকেই আমার সেলফি তুলতে আসে। নেতা হিসেবে আমি তো বারণ করতে পারেনি। তবে ওই নারীকে ধর্ষণে অভিযুক্তদের আমার কোন ব্যক্তিগত কিংবা রাজনৈতিক সম্পর্ক নেই।

কক্সবাজার-রামু আসনের সাংসদ সদস্য সাইমুম সরওয়ার কমল বলেন, আমি একজন এমপি। অনেকেই অনেক অনুষ্ঠানে আমার সাথে সেলফি তুলে। তাদের প্রত্যেককে তো আমি ব্যক্তিগতভাবে চিনি না। 

তিনি আরও বলেন, দেখুন অপরাধী যেই হোক সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে আমি তার সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অনুরোধ করবো।

হোটেল মালিকদের সাথে প্রশাসনের বৈঠক

শুক্রবার (২৪ ডিসেম্বর) বিকালে হোটেল মালিক ও আইনশৃংখলা বাহিনীর কর্মকর্তাদের সাথে দুই ঘন্টা বৈঠক করেন জেলা প্রশাসন।  জেলা প্রশাসনের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্টিত ওই বৈঠকে পযটকদের নিরাপত্তা এবং আইনশৃংখলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বেশ কিছু সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মো. মামুনুর রশীদ।

সিদ্ধান্তগুলো হলো- এখন থেকে হোটেল কক্ষ ভাড়া নিতে হলে অতিথির জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) বাধ্যমতামুলক, প্রশিক্ষিত ব্যবস্থাপক ও কর্মচারী নিয়োগ, কক্ষভাড়ার তালিকা ও রেস্তোরাঁয় খাবার মূল্যতালিকা টানানো, অনলাইন ব্যবস্থাপনায় কক্ষ ভাড়া, সকল হোটেল রেস্তোরাঁকে নিবন্ধন, হোটেলের আশপাশে বখাটের আড্ডা সম্পর্কে আইনশৃংখলা বাহিনীকে অভিহিতকরণ, স্থানীয় (শহর এলাকার) কক্ষভাড়া দেওয়া ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। এ সিদ্ধান্ত কাযকর হয়েছে কীনা তা দেখতে একাধিক ভ্রাম্যমাণ আদালত মাঠে নামানো হবে।

মহানগর নিউজ/এসএ

সম্পর্কিত বিষয়: