বৃহস্পতিবার ০২ ডিসেম্বর ২০২১

| অগ্রাহায়ণ ১৮ ১৪২৮

মহানগর নিউজ :: Mohanagar News

প্রকাশের সময়:
১৮:২১, ১৪ অক্টোবর ২০২১

রাঙামাটি প্রতিনিধি

রাঙামাটির ‘ঘাগড়া ঝরনা’ সবার মন ভোলায় রে 

প্রকাশের সময়: ১৮:২১, ১৪ অক্টোবর ২০২১

রাঙামাটি প্রতিনিধি

রাঙামাটির ‘ঘাগড়া ঝরনা’ সবার মন ভোলায় রে 

রাঙামাটি ঘাগড়া ঝরনা

পার্বত্য জেলা রাঙামাটির বুকজুড়ে কাপ্তাই হ্রদ। বৃহৎ এ হ্রদে রয়েছে অসংখ্য ছোট-বড় ঝরনা। এতসব ঝরনার মধ্যে সবচেয়ে পরিচিত ঝরনার নাম ‘সুবলং ঝরনা’। তবে ইদানিং শহরের কাছেই আরও একটি ঝরনা জনপ্রিয় হয়ে ওঠেছে। ঝরনাটির নাম ‘ঘাগড়া’। এর রূপ সৌন্দর্য দেখতে প্রতিদিনই ভিড় জমাচ্ছেন দর্শনার্থীরা।

রাঙামাটির চট্টগ্রাম-রাঙামাটি মহাসড়কের কাউখালী উপজেলার ঘাগড়া ইউনিয়নে এই ঝরনাটি অবস্থিত। এলাকাটি কলা বাগান নামেও পরিচিত। তাই স্থানীয়ভাবে এটি ‘কলা বাগান ঝরনা বা ঘাগড়া ঝরনা’ হিসেবে পরিচিত। এখানে পাহাড়ি ছড়ার মধ্য দিয়ে প্রায় দুই থেকে আড়াই কিলোমিটার হেঁটে যেতে হয় মূল ঝরনায়। তবে যাওয়ার পথে দেখা মেলে আরও ৫-৬টি ছোট-বড় ঝরনার।

রাঙামাটি শহর থেকে সিএনজি অটোরিকশা ভাড়া করে যাওয়া যায় ঝরনাটিতে। ভাড়া ২০০-২৫০ টাকা। মূল সড়ক থেকে হাতের বামে প্রবাহমান একটি ছোট্ট পাহাড়ি ছড়া রয়েছে। ছড়াটির উপর ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা অসংখ্য নুড়ি পাথরের উপর দিয়ে হেঁটে দুই পাশের অসংখ্য পাহাড় আর সবুজে ঢাকা গাছ-পালার সৌন্দর্য উপভোগ করতে করতে এগিয়ে যেতে হয় মূল ঝরনার দিকে। চলার পথে অসংখ্য ছোট ঝরনা পর্যটকদের নজর কাড়তে শুরু করবে। মাত্র পনেরো থেকে বিশ মিনিট হাঁটলেই দৃষ্টিনন্দন বড় ঝরনাটি স্বাগত জানাবে আপনাকে। এরপর হালকা পিচ্ছিল অথচ মসৃণ পথ বেয়ে উপরের দিকে উঠতে হয়। এ পথে পাড়ি জমাতে গিয়ে দুরন্ত কৈশোরের দুষ্টুমির কথাও মাথায় ভর করতে পারে। আবার স্বচ্ছ পানি দেখে জলরঙ্গ খেলার লোভও জাগতে পারে।

প্রথম ঝরনা থেকে কিছুটা উঁচুতে উঠলে অপর ঝরনাটি পর্যটকদের ক্লান্তি দূর করে বিমোহিত করবে। এভাবে একেকটা ঝরনাধারা পেরিয়ে একের পর এক যত উঁচুতে উঠবেন, ততই আপনি মুগ্ধ হতে থাকবেন। আপনাকে আনন্দের জোয়ারে অন্য এক রাজ্যে নিয়ে যাবে মুহূর্তেই।

এ পথের সর্বশেষ অংশে দেখা মিলবে আকাশচুম্বী সবচেয়ে বড় ঝরনাটির। ঝরনাটি এতই উঁচু, তার কাছে ঘেঁষতে ভয় পাবেন যে কেউ। তবে জলপ্রপাতের একেবারে কাছে এসে তার সৌন্দর্য সুধা পান করবেন না, তা কি হয়? 

মনোরম এ প্রাকৃতিক ঝরনাগুলোর মূল বৈশিষ্ট্য হচ্ছে- সমতল থেকে স্তরে স্তরে অন্তত দেড় থেকে দুইশত ফুট উঁচু থেকে জল গড়িয়ে পড়ার দৃশ্য। প্রতিটি ঝরনারই রয়েছে স্বতন্ত্র কিছু বৈশিষ্ট্য, যা না দেখলে বিশ্বাস হবে না।

প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা অসংখ্য পর্যটকের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠছে ঝরনাপাড়া। চট্টগ্রামের হাটহাজারি থেকে আসা নাহিদ সরোয়ার বলেন, রাঙামাটির অসংখ্য ঝরনার কথা শুনেছি। আগেও বেশ কয়েকবার সুবলং ঝরনায় গিয়েছি। আর এ ঝরনায় আমার দ্বিতীয়বার আসা। এখানে একবার এলে বার বার আসতে ইচ্ছে হয়।

পর্যটক প্রমিলা চাকমা বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় এখনো বন্ধ। তাই কয়েকজন বন্ধু মিলে ঘাগড়া ঝরনায় বেড়াতে এসেছি। ঝরনার রূপে আসার কষ্ট ও ভয় মুহূর্তেই হারিয়ে গেছে। প্রকৃতির এ অপরূপ সাজ যে কোনো ভ্রমণপিপাসুকে মুগ্ধ করবেই।

তবে ঝরনায় আসার পথ অনেকটা ঝুঁকিপূর্ণ। যে কোন সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। এখানে নিরাপত্তারও ঝুঁকি রয়েছে। তাই পর্যটকদের সার্বিক নিরাপত্তার জন্য ব্যবস্থা নেওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছেন পর্যটকরা।

মহানগর নিউজ/এসএ