বুধবার ১৯ জানুয়ারি ২০২২

| মাঘ ৬ ১৪২৮

মহানগর নিউজ :: Mohanagar News

প্রকাশের সময়:
২১:০০, ২৬ ডিসেম্বর ২০২১

রাজু কুমার দে, মিরসরাই

ইট পাথরের ছোঁয়ায় মাটি ও ছনের ঘরের সর্বনাশ

প্রকাশের সময়: ২১:০০, ২৬ ডিসেম্বর ২০২১

রাজু কুমার দে, মিরসরাই

ইট পাথরের ছোঁয়ায় মাটি ও ছনের ঘরের সর্বনাশ

মিরসরাইয়ের সাইবেনিখীল আদিবাসী পাড়ায় একটি মাটি ও ছনের ঘর

আজ যে জিনিসটি পৃথিবীতে আলোড়ন সৃষ্টি করছে, কাল তার স্থান হচ্ছে ইতিহাসে অথবা যাদুঘরে। তেমনিভাবে আধুনিকতার স্পর্শ আর কালের বিবর্তনে হারিয়ে যাচ্ছে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী মাটি ও ছনের ঘর। 

মাটি ও ছনের ঘর নিয়ে সাহিত্য রচনা করেছেন বিভূতিভূষণ বন্দোপাধ্যায়সহ অনেক সাহিত্যিক। বেশি দিন আগের কথা নয়, প্রতিটি গ্রামে নজরে পড়ত অসংখ্য মাটি ও ছনের ঘর। কালের আবর্তনে আধুনিকতার ছোঁয়ায় প্রায় বিলুপ্ত হতে বসেছে মাটি দিয়ে তৈরি ঘর। অত্যন্ত আরামদায়ক মাটি ও ছনের আবাসে দরিদ্র মানুষের পাশাপাশি বিত্তবানরাও একসময় পরিবার-পরিজন নিয়ে বসবাস করতেন। এখন মাটির ঘর ভেঙে নির্মাণ করা হচ্ছে ইটের তৈরি পাকা দালান। মাটির ঘরগুলো গরমে শীতল আর শীতে উষ্ণ। বর্তমানের শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ঘরের মতো। মিরসরাই উপজেলার বিভিন্ন এলাকা একসময় মাটির ঘরের গ্রাম হিসেবে খ্যাত ছিল। 

মিরসরাই উপজেলার হিঙ্গুলী ইউনিয়নের পূর্ব হিঙ্গুলী গ্রামের মাটির ঘর তৈরি কারক অঞ্জন পালিত জানান, এঁটেল মাটি দিয়ে এসব ঘর তৈরি করা হতো। প্রথমে পানি ব্যবহার করে মাটিকে কাদায় পরিণত করা হয়। পরে সেই কাদা ২৫-৪০ ইঞ্চি চওড়া করে দেয়াল তৈরি করা হয়। মাটির দেয়াল তৈরি করতে বেশ সময় লাগতো। কারণ কাদা মাটি একসাথে বেশি উঁচু করা যায় না। প্রতিবার এক দেড় ফুট উঁচু করে আসতে আসতে দেয়াল তৈরি করা হয়। এভাবে দেয়াল ১২-২০ ফুট উঁচু হলে বেশ কিছুদিন রোদে শুকানো হয়। তারপর দেয়ালের ওপর বাঁশের চাল তৈরি করে ছন দিয়ে ছাউনি দেওয়া হয়। 

তিনি আরও জানান, একটি মাটির ঘর তৈরি করতে প্রায় ৩-৪ মাস পর্যন্ত সময় লাগতো। মাটির ঘর শীত-গরম উভয় মৌসুমে বেশ আরামদায়ক। তবে বন্যা, ভূমিকম্প বা প্রবল ঝড় না হলে এসব ঘর শতবছর পর্যন্ত টিকে থাকে। অনেক সময় মাটির ঘর দোতলা পর্যন্ত করা হতো। এখন আর  মাটির ঘর চোখে পড়ে না। তবে এখনও বাপ-দাদার স্মৃতি ধরে রাখতে অনেকেই দু’একটি মাটির ঘর টিকিয়ে রেখেছে। বিশেষ করে উপজেলার করেরহাট, হিঙ্গুলী ইউনিয়নে দুই একটি মাটির ঘর চোখে পড়ে। 

করেরহাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এনায়েত হোসেন নয়ন জানান, এখন মাটি ছনের ঘর দেখা যায় না। আধুনিকতার ভিড়ে হারিয়ে গেছে মাটির ঘর। তবে বিভিন্ন গ্রামের গুটি কয়েক মাটি ছনের ঘর দেখা যায়। 

মহানগর নিউজ/এআই