বুধবার ১৯ জানুয়ারি ২০২২

| মাঘ ৬ ১৪২৮

মহানগর নিউজ :: Mohanagar News

প্রকাশের সময়:
১৫:৫১, ২২ ডিসেম্বর ২০২১

রাজু কমার দে, মিরসরাই

খরচ কম, চাষে ঝামেলা নেই

গোল মরিচ চাষে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর ভাগ্য বদলের চেষ্টা

প্রকাশের সময়: ১৫:৫১, ২২ ডিসেম্বর ২০২১

রাজু কমার দে, মিরসরাই

গোল মরিচ চাষে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর ভাগ্য বদলের চেষ্টা

দুর্গম পাহাড়ে গোল মরিচ চাষ

মিরসরাইয়ে প্রথমবারের মতো চাষ হচ্ছে মসলা জাতীয় ফসল গোল মরিচ। উপজেলার করেরহাট ইউনিয়নের কয়লামুখ এলাকায় পাহাড়ি ঢালু জমিতে গোল মরিচ চাষ করছেন আদিবাসীরা। এতে গোল মরিচ চাষে সহযোগিতা করছেন স্থানীয় এনজিও সংস্থা ‘অপকা’। 

২০১৯ সালের ২৪ জুলাই গোল মরিচ ক্ষেত পরিদর্শনে আসেন বিশ্বব্যাংক প্রতিনিধি ইতালির নাগরিক কেটিং ক্রেস্টা ও জান্স। তারা গোল মরিচ ক্ষেত পরির্দশন করে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন। 

জানা গেছে, ২০১৭ সালে স্থানীয় উন্নয়ন সংস্থা ‘অপকা’র উদ্যোগে ও দাতা সদস্য পিকেএসএফের আর্থিক সহযোগিতায় উপজেলার করেরহাট ইউনিয়নের কয়লামুখ ও ফটিকছড়ি এলাকায় ২০ জন সুবিধা ভোগীকে গোল মরিচ চাষে উদ্বৃত্ত করা হয়। ওদের প্রত্যেক পরিবারকে দেওয়া হয় ১২৫টি পাকা খুঁটি। প্রত্যেকটি খুঁটির জন্য ৪টি করে সর্বমোট ৫০০ চারা দেওয়া হয়। 

সম্প্রতি করেরহাট ইউনিয়নের কয়লামুখ এলাকায় গিয়ে কথা হয় আদিবাসী নারী মালতী ত্রিপুরা ও ময়ূরী রানী ত্রিপুরার সাথে। তারা জানান, অপকার কাছ থেকে সহযোগিতা পাওয়ার পর ২৫ শতাংশ পাহাড়ি ঢালু জমিতে প্রথমবারের মতো গোল মরিচ ক্ষেত করেছেন। ক্ষেতে ১২৫টি পাকা খুঁটি রয়েছে। প্রতিটি খুঁটিতে ৪টি করে গোল মরিচের চারা রোপন করা হয়েছে। চারা গুলো বড় হয়ে খুঁটির সাথে জড়িয়ে উপরে উঠেছে। এসেছে ফল। ইতিমধ্যে বেশ কিছু ফল বিক্রি করেছেন। তবে চারা কাটিংয়ের ব্যবস্থা থাকলে তারা চারা বিক্রি করে বাড়তি আয় করতে পারতেন।
 
সরেজমিনে করেরহাট কয়লামুখ এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, কয়েকটি ক্ষেতের বেশ কিছু চারা মরে গেছে। তবে ‘অপকা’র কর্মকর্তারা চাষিদের পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছেন। বছরে প্রত্যেকটি পিলার থেকে ৭/৮ কেজি কাঁচা গোল মরিচ পাওয়া সম্ভব বলে স্থানীয়রা জানান। যা শুকানোর পর ৩/৪ কেজি হবে। যার আনুমানিক মূল্য প্রায় ৩ হাজার টাকা। এভাবে ১২৫টি পিলারের ৫০০টি গাছ থেকে বছরে ৫০০ কেজি শুকনো গোল মরিচ পাওয়া যাবে। যার আনুমানিক মূল্য ৪ লাখ টাকা। তবে সরকারিভাবে বয়লার স্থাপন করা হলে চাষিদের জন্য সুবিধা হতো বলে জানান স্থানীয়রা। 

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা রঘুনাথ নাহা জানান, করেরহাট ইউনিয়নের কয়লা এলাকায় এনজিও সংস্থা অপকার সহযোগিতায় গোল মরিচ চাষ করা হয়েছে। ইতিমধ্যে ফল পেতে শুরু করেছে তারা। করেরহাট ইউনিয়নে নিয়োজিত কৃষি অফিসের মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারা তাদের বিভিন্ন ভাবে সহযোগিতা করে থাকেন। 

অপকার নির্বাহী পরিচালক মো. আলমগীর জানান, মিরসরাই ও ফটিকছড়ি উপজেলা দরিদ্র ২০টি পরিবারকে গোল মরিচ ক্ষেত করে দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে চারা কাটিংয়ের জন্য একটি নার্সারি করা উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। যাতে করে চাষিরা চারা কাটিং করে বাড়তি আয় করতে পারে। 

মহানগর নিউজ/এআই